দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বপ্নের ভারত? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যত হতাশ উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ মিলন পাড়ার বাসিন্দা তথা জেলার একমাত্র স্বাধীনতা সংগ্রামী মনিন্দ্র নাথ রায়। পরাধীন ভারতে জেলখাটা তাম্র পদকপ্রাপ্ত মনিন্দ্র বাবু বলেন এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু দেশের হাল এমনটা হবে ভাবিনি। অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলার বেড়া থানা এলাকায় ১৯২৩ সালে জন্ম গ্রহন হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী মনিন্দ্র বাবু। বর্তমানে ছেলের সঙ্গে থাকেন রায়গঞ্জে। ৪০ এর দশকে অবিভক্ত বাংলার অশাজপাড়া গাওয়ে বসে মুক্তির সপ্ন দেখতেন। অষ্টম শ্রেনীতে উঠেই তার মুক্তির আন্দোলনের হাতে খড়ি। কিশোর অবস্থায় থেকেই পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বধীন করার ইচ্ছে প্রবল ভাবে তার মধ্যে ছিল। এমনকি আন্দোলনে আংশগ্রহনকারী নেতাদের মিছিল অথবা সমাবেশ এ বক্তব্য শুনতে ছুটে গেছেন অনেকবার। সক্রিয় ভাবে এই আন্দোলনের অংশগ্রহন প্রথম জীবনে না করলেও পরবর্তীতে তিনি স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনকারীদের খবর আদানপ্রদান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাহায্য করতেন। এমনকি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় অভিযোগ জেলার বাইরে যাওয়ার জন্য তার উপর বিধিনিষেধ অরোপ করে ব্রিটিশ সরকার। এরপর গান্ধীজির আদশে অনুপ্রনিত হয়ে সক্রিয়ভাবে তিনি স্বাধীনতা অন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। তৎকালিন বহু সংগ্রামীদের সঙ্গে তিনি অংশ গ্রহন করেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। ব্রিটিশের বিভিন্ন কার্যকালাপের গোপন বহু তথ্য পাচার করার অপরাধে একবার মনিন্দ্র বাবু ধরাও পড়ে জান ব্রিটিশ সরকারের কাছে। সেই দমদম জেলে বসেই তাকে মাধ্যেমিক পরীক্ষা দিতে হয়।এরপর সাধের স্বাধীনতা ভারতবর্ষ অর্জন করার পড় তিনি রায়গঞ্জে চলে আসেন এবং রায়গঞ্জে নবগঠিত পুরসভা গঠন হলে সেই সময় পুরসভায় চাকরি পান তিনি। বর্তমানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য নিয়মিত ভাতা পান। প্রতিবারে তাকে স্বাধীনতা দিবসের দিনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।
উত্তরদিনাজপুর